Friday , November 27 2020

দ্বীপে ১৫০ নারী মডেল নিয়ে যুবরাজ সালমানের আমোদ পার্টি

মালদ্বীপে ব্যক্তিগত দ্বীপে মডেলদের নিয়ে বিলাসবহুল পার্টির আয়োজন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ২০১৫ সালে জুলাইয়ে দ্বীপটিতে একমাস ধরে এ পার্টি চলে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দুই সাংবাদিক ব্র্যাডলি হোপ ও জাস্টিন শেকের প্রকাশিত একটি বইতে যুবরাজের এ বিলাসী জীবনের কথা উঠে আসে। এ দুই সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে সৌদি রাজপরিবারের তথ্য অনুসন্ধান করে আসছেন। মঙ্গলবার তাদের লেখা ‘ব্লাড অ্যান্ড অয়েল: মোহাম্মদ বিন সালমান’স রুথলেস কোয়েস্ট ফর গ্লোবাল পাওয়ার’ নামে বইটি প্রকাশিত হয়।

এতে বলা হয়, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে ওই পার্টির জন্য ব্রাজিল, রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকে আনা হয় প্রায় ১৫০ জন নারী মডেল। মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েক ডজন’ পুরুষের সঙ্গে পার্টিতে যোগ দেন তারা। পার্টিতে বিনোদনের জন্য নিয়ে আসা হয় নামকরা সব তারকা শিল্পীকে। যাদের মধ্যে ছিলেন পিটবুল, গ্যাংনাম খ্যাত কোরীয় র‌্যাপার সাই ও ডিজে আফ্রোজ্যাক।

এমনকি জেনিফার লোপেজ ও শাকিরাও সেখানে পারফর্ম করেন বলে এক সূত্রে জানা যায়। সেই পার্টির আয়োজক ছিলেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তখন ২৯ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের উপ-প্রধানমন্ত্রী, একইসঙ্গে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিদের একজন সৌদি যুবরাজ বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকাতেও রয়েছেন। তিনি এমবিএস নামে পরিচিত, যা তার পুরো নামের সংক্ষিপ্ত রূপ।

মালদ্বীপের ‘ভেলা’ নামের একটি ব্যক্তিগত দ্বীপে প্রায় এক মাস ধরে পার্টি চলে। ‘ভেলাকে’ বলা হয়ে থাকে ‘বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল ও ব্যয়বহুল’ দ্বীপ। এক মাসের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে দ্বীপটি ভাড়া নিয়েছিলেন এমবিএস। দ্বীপটিতে প্রায় চার ডজন ব্যক্তিগত বাগানবাড়ি আছে, যার অনেকগুলো ভারত মহাসাগরের নীল পানির ওপর নির্মিত। প্রত্যেকের জন্য রয়েছে ব্যক্তিগত ডেক ও সুইমিং পুল। এমনকি পার্টিতে একটি তুষার মেশিনও আনা হয়, যেটির মাধ্যমে অতিথিরা সৈকতে কৃত্রিম বরফখণ্ড তৈরি করে সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দুই সাংবাদিকের লেখা বইটিতে বলা হয়, পার্টিতে খরচ হয় প্রায় পাঁচ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রা যা প্রায় ৪২৪ কোটি টাকা।

রিসোর্টের ৩০০ জনেরও বেশি কর্মী নগদ টিপসের বাইরে পাঁচ হাজার ডলার করেও বোনাস পেয়েছেন। সাধারণত মাসে এক হাজার ডলার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলার আয় করে থাকেন তারা। এ পার্টির বিষয়টিকে গোপন রাখতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন এমবিএস ও তার কর্মীরা। এ জন্য এত বেশি অর্থ খরচ করেছেন তিনি। গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে, দ্বীপে কাউকে স্মার্টফোন আনতেও দেওয়া হয়নি। যোগাযোগের জন্য কেবল নকিয়া ৩৩১০ মডেলের মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি ছিল। এই নিয়ম ভঙ্গ করায় দুই কর্মচারীকে বরখাস্তও করা হয়।

দুই সাংবাদিক আরও জানান, ১৫০ মডেলদের নিয়ে নৌকাগুলো দ্বীপে পৌঁছানোর আগে আলাদা একটি মেডিকেল হাউসে তাদের যৌনরোগের পরীক্ষা করা হয়। এরপর তাদের বাগানবাড়িতে ঢুকতে দেয়া হয়। তখন এমবিএস ও তাদের বন্ধুদের বহনকারী সমুদ্র বিমানগুলো দ্বীপটিতে আসে। পার্টিতে ডিজে ও ড্যান্স আয়োজনেও অংশ নেন সৌদি যুবরাজ। মূলত সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হতো অতিথিদের বিলাসী এ উৎসব, চলতো ভোর পর্যন্ত। এক রাতে আফ্রোজ্যাকের পারফরম্যান্সের সময় এমবিএস এতটাই আবেগী হয়ে ওঠেন যে স্টেজে উঠে এসেছিলেন তিনি। মদ্যপানসহ কিছু ক্ষেত্রে এমবিএস তার নিজস্ব কর্মীদের ওপর নির্ভর করতেন। যেহেতু সৌদি আরবে মদ্যপান নিষিদ্ধ, এমবিএস চাইতেন না দ্বীপের কর্মচারীরা তাকে মদ্যপান করতে দেখুক। তবে কম সময়ের মধ্যেই দ্বীপটিতে এমবিএসের উপস্থিতির বিষয়টি স্থানীয় পত্রিকায় ফাঁস হয়ে যায়। সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এমবিএস কম সময়ের মধ্যে সেখান থেকে চলে যান। আমন্ত্রিত বিদেশি মডেলরাও দ্বীপ ছাড়ে। বইটিতে সৌদি যুবরাজের বিলাসবহুল জীবনের আরও কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়। মালদ্বীপের পার্টির পরেই তিনি কেনেন ৪৩৯ ফুটের প্রমোদতরী ‘দ্য সিরিন’। ভদকা ব্যবসায়ী এক রাশিয়ান ধনকুবের থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থে প্রমোদতরীটি কেনেন এমবিএস, যা জাহাজটির প্রকৃত মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। প্রমোদতরীতে দুটি হেলিপ্যাড, একটি আন্ডার ওয়াটার রুম, একটি সাবমেরিন ডক, একটি সিনেমা থিয়েটার, পিয়ানোর মতো সর্পিল সিঁড়িসহ অত্যাধুনিক ব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়া অবকাশ যাপনের জন্য ফ্রান্সের ভার্সাইয়ের কাছে একটি আকর্ষণীয় ফরাসি দুর্গও কেনেন এমবিএস, যার দাম ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *