প্রেমিকের লালসার বলি কলেজছাত্রী

যশোরে সিজার করতে গিয়ে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রীর প্রেমিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার বাবা। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

আসামিরা হলেন,  যশোর নতুন উপশহরের শামীম হোসেন ও নাঈম হোসেন, নাসিম হোসেন।

নিহত কলেজছাত্রীর বাবা বলেন, শামীম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এতে আমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শামীম তার গর্ভপাতের জন্য ওষুধ খাওয়ায়। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আমার মেয়ে শামীমকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। তার মোবাইলের মেসেজে তার প্রমাণ আছে। কিন্তু শামীম বিয়ে না করার জন্য টালবাহানা শুরু করে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ওই ছাত্রী নাসিম ও নাঈমের সঙ্গে একই কলেজে পড়তেন। তাদের মাধ্যমে শামীমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর শামীম বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে। ৩ মে কলেজ ছুটির পর তাকে ফুঁসলিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় শামীম। এরপর তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। ১২ জুলাই ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারেননি। ১৭ জুলাই তাকে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় তিনি আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর ইবনে সিনা হাসপাতালে তার অপারেশন করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক কাজল মল্লিক বলেন, ওই ছাত্রী আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু তার জরায়ুতে সমস্যা ছিল। বাচ্চা যেখানে কনসিভ করার কথা সেখানে না করে পাশের নালীতে করে। ফলে নালী বড় হয়ে তা ফেটে যায়। এ ধরনের সমস্যা হলে কোন নারী সন্তান জন্ম দিতে পারে না। বড় হওয়ার আগেই অপারেশন না করলে মায়ের মৃত্যু হয়। এ ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

যশোর উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে শামীমের ছোট ভাই নাসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শামীমকে পাওয়া যায়নি।

যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (অপারেশন) শামসুদ্দোহা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই ধর্ষণ মামলা হয়েছে। ওই কলেজছাত্রীর মৃত্যু হওয়ায় নতুন ধারা যোগ হবে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর