Sunday , September 19 2021

সৎ মায়ের সংসারে বেড়ে উঠা একটি মেয়ের গল্প, পড়ে চোখে পানি চলে এলো

মাকে হা’রিয়েছি সেই ছোট বেলায়। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসারে অন্যান্য ভাই বোনদের সাথে বেড়ে উঠি কিছুটা অযত্নে আর অবহেলায়। হুট করেই প্রে’ম আসে আমা’র জীবনে। আমি ভালোবেসে ফেলি অ’ভিকে। আমিও সুখের সংসার সাজাতে চেয়েছিলাম ভালোবাসার মানুষটার হাতটা আঁকড়ে ধ’রে। বিয়েও করেছিলাম সেই মানুষটাকে।

ভালোবাসলে তাকে জীবনে পেতে হয়. আর না পেলেই শুরু হয়ে যায় ব্যার্থতার গল্প গু’লো। কেউ কাউকে ছে’ড়ে চলে গেলে বা অন্যত্র বিয়ে করলে শুরু হয়ে যায় একপক্ষীয়ভাবে তাকে দোষারোপ করা। কিন্তু কেউ কারো অ’পারগতা মানতে বা বুঝতে রাজী নয়।

যাই হোক কথায় আছে ভালোবাসার মানুষটাকে জীবনে পেলে নাকি তখন ভালোবাসাটা আর থাকে না। থাকে শুধু সেই মানুষ টা।











কি লাভ সেই মানুষটা থেকে। একসময় সেই ভালোবাসাহীন মানুষটা বির’ক্তির কারণ হয়ে উঠে। আমা’র জীবনে ও ঠিক এমনটাই ঘ’টেছে। বড্ড ভালোবেসে বিয়ে করেছি অ’ভিকে। অ’ভি একটা ভালো চাকরী ও করে। তার পরিবার ও মোটামুটি স্বচ্ছল। কিন্তু মা ম’রা এই আমাকে তার পরিবার প্রথম থেকেই অবজ্ঞা ক’রতে থাকে। নতুন বৌ হিসেবে অ’ভি আমাকে তার মা বাবার কাছে রেখে সে তার ক’র্মস্থলে চলে যায়। অ’ভির মা বাবাকে কখনো পর ভাবিনি।

আপন ভেবে… সমস্ত সংসারের কাজ নিজ হাতে করতাম। কার কখন কি প্রয়োজন সব সামলে নিতাম। বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া, রান্না করা একটা সংসারে কি এমন কাজ নেই সব নিজ হাতেই করতাম। কাজ ক’রতে কোন ক্লান্তি আসতো না। ভাবতাম আমা’র নিজে’রই তো সংসার। নিজে’র পরিবার।











অ’ভির মা বাবা কি আমা’র মা বাবা নয়। তাদেরকে আপন করে নিতে যথাসাধ্য চেষ্টার ত্রুটি রাখিনি। কিন্তু ভাগ্য আমা’র সহায় ছিলো না। তারা আমায় আপন ভাবতে পারে নি। পরের মে’য়েকে আপন করে নিতে তাদের রাজ্যের দ্বিধা ছিলো। কারণে অকারণে, উঠতে বসতে খোঁটা দিতো। কি করে তাদের সোনার টুকরা ছে’লেকে বশ করলাম। কেনই বা তার গ’লায় ঝুলে প’ড়েছি।

কেন আমা’র বাবা মোটা অংকের যৌ’’তুক দেয় নি। ভরি ভরি অলংকার গড়িয়ে দেয় নি। বলতাম বাবার যা সাম’র্থ্য ছিলো তাতো দিয়েছো। আরো অনেক কিছুই দিবে বলেছে আস্তে আস্তে। কিন্তু তারা সেসব কথায় কান না দিয়ে যা তা ব্যবহার করতো আমা’র সাথে।

আমাকে খালি হাতে বিদা’য় করার জন্যই নাকি অ’ভির পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে। সব শুনতাম.. আর কা’ন্না করতাম। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ। মনের কথা বলার মত কেউ ছিলো না। তাই নিজে কেঁদে আবার নিজেই উঠে গিয়ে সংসারের কাজে মন দিতাম। অ’ভি যখন বাড়ীতে দুই একদিনের জন্য আসতো এসব বলে ঝামেলা বাড়াতে চাইতাম না। কিন্তু… যখন ধৈর্যের বাঁধ ভে’ঙ্গে গেলো। অ’ভিকে সব বললাম।











অ’ভি তার মা বাবাকে বুঝিয়ে বললো। তারা যেন এসব ব্যবহার না করে আমা’র সাথে। অ’ভি যতদিন বাড়ীতে থাকতো তারা আমা’র সাথে ভালো ব্যবহারই ক’রতেন কিন্তু অ’ভি চলে যাওয়ার পর তাদের পূর্বের আচরণ শুরু ’হতো। এর মাঝেই আমি প্রেগন্যান্ট হলাম। তাদের কাছে কখনোই ভালো ব্যবহার পাইনি।

অ’ভিটাও যেন দিন দিন কেমন হয়ে যাচ্ছে। মা বাবার সাথে সুর মিলিয়ে আমাকে কথা শোনায়। এতোদিন স্বামীর ভালোবাসা আমা’র মনের সব ক্ষ’তকে সারিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু এখন অ’ভির এসব আচরণ কা’টা ঘায়ে নুনের ছিটার মত এসে হৃদয়টাকে ক্ষ’ত বিক্ষ’ত করছে।

অ’ভি তো সব জে’নে শুনেই আমাকে বিয়ে করেছে। তবে কেন এখন এসব কথা। এরপর প্রায় ই অ’ভি আমা’র গায়ে হাত তুলতে থাকে। একজন মানুষকে যতটা শা’রীরিক মা’নসিক যন্ত্র’ণা দেয়া যায়। তাই ক’রতে থাকে সবাই মিলে।

অ’সু’স্থ শ’রীর নিয়ে পুরো সংসারের কাজ করা তার উপর সবার কটু কথা জীবনটা কে যেন বি’ষিয়ে তুলেছিলো। তারপরও পে’টের অনাগত স’ন্তানের কথা ভেবে সব মেনে নিয়েছিলাম। আমা’র কোল জুড়ে আমা’র ছোট্ট মা মনি এলো। এতেও সবাই অখুশি। ছে’লে হলো না কেন? দায়টা যেন আমা’রি। মে’য়েটা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে।











সংসারে খাচ্ছি, থাকছি এটাই যেন বিরাট কিছু। সবাই যেন আমা’দের দুইজনের উপর ক’রুণা করছে। অ’ভিটা পুরোপুরি পালটে গেছে। ঠিকমত খোঁ’জ খবর নেয় না। মাসে, ছয়মাসে বাড়ী আসে। সে আ’সলেই তার বাবা মা রাজ্যের অ’ভিযোগের ভান্ডার খু’লে বসেন। অ’ভির অ’ত্যাচার শুরু হয়ে যায়। অ’ভির অ’ত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বাড়তেই থাকে। হায়রে ভালোবাসা!

এসব দেখলে ভালোবাসাও স্বয়ং ল’জ্জায় মুখ লুকোবে। কিছুদিন পর খবর পেলাম অ’ভির ক’র্মস্থলে এক মে’য়ের সাথে স’ম্পর্কে জড়িয়ে প’ড়েছে। বিয়েও ক’রতে চলেছে। কাঁদলাম। ছোট্ট সোনামণিকে বুকে জড়িয়ে ধ’রে ইচ্ছেমত কাঁদলাম। বাবাকে ডেকে আগের অ’ত্যাচার আর এখনকার ঘ’টনা সব কিছুই জা’নালাম।

আমি যে আর সহ্য ক’রতে পারছি না। শত হোক বাবার প্রথম স’ন্তান ছিলাম। সেই হিসেবে কিছুটা টান, মায়া তখনো অবশিষ্ট ছিলো। একদিন খবর পেলাম। আমা’র স্বামী তার সেই প্রে’মিকা নামের মে’য়েটিকে বিয়ে করে সুখে সংসার শুরু ক’রেছেন শহরে। এটাই দেখার বাকী’ ছিলো।

লাত্থি মা’রতে ইচ্ছে করলো সেই ভালোবাসাকে, যে ভালোবাসা সময়ের সাথে ফুরিয়ে গিয়ে প্রয়োজন হয়ে যায়। সেই প্রয়োজন শেষ হলে ছুঁড়ে ফে’লে দেয়। জলে চোখ ভিজে উঠলো। মে’য়ের হাতটা শক্ত করে ধ’রে উঠে দাঁড়ালাম। অনেক সহ্য করেছি এই সংসারে। একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাব’ে ভেবে সব অ’ত্যাচার অবিচার মেনে নিয়েছিলাম। তার প’রিণতি আজ এই হলো। বাবার সংসারে এসে উঠলাম।

দুই দিন পর অ’ভি এলো। তার বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে আমা’দের মাঝে কথা কা’টাকাটি হলো। এক পর্যায়ে তেড়ে এসে আমাকে অনেক মা’রলো। বাবা এসে থামালেন। তিনি অ’ভিকে স্পষ্ট জা’নিয়ে দিলেন আমা’র মে’য়ে আর তোমা’র সংসার করবে না। অ’ভি ফি’রে গেলো। কেউ বুঝিয়ে আর কোন লাভ হলো না আমা’দের।

আমা’র আর অ’ভির ডিভোর্স হয়ে গেলো। এর মাস ছয়েক পরে একদিন আমাকে পাত্রপক্ষ দে’খতে আ’সলো। তারা সব জে’নে শুনেই এলো। আমাকে তাদের পছন্দ হয়েছে। বিয়েটাও হয়ে গেলো। আমি আর অমত করিনি। আমা’র আর আমা’র মে’য়ের জন্য একজন অ’ভিভাবকের খুব প্রয়োজন ছিলো। যা হয়েছে ভালোর জন্য ই হয়েছে হয়তো।

এই লোকটা খুবই ভালো। সংসার, আমা’র আর আমা’র মে’য়ের খুব খেয়াল রাখেন। আমা’র খুব যত্ন নেন। আমা’দের একটা ছে’লেও হয়েছে। কানায় কানায় সুখে পরিপূর্ণ আমা’র এই সংসার। শুনেছি… অ’ভির সেই সংসারটা টেকেনি। তাদের একটা মে’য়েও হয়েছিলো। মে’য়েটাকে ফে’লে অ’ভির স্ত্রী’ চলে গেছে।

অ’ভি আবার বিয়ে করেছে। তবে সারাক্ষণই সংসারে অশান্তি। আম’রা কখনো কখনো মানুষ চিনতে ভু’ল করি। ভু’ল মানুষকে ভালোবাসি। তবে সেই ভু’লের মাশুল সারাজীবন বয়ে বেড়ানোর চেয়ে সেই জীবন থেকে বিদা’য় নেয়াই শ্রেয়।

হয়তো আরো ভালো কিছু অ’পেক্ষা করছে আমা’দের জন্য। মাঝে মাঝে আমা’র স্বামীকে দেখে মনে হয় মানুষ কি করে এতোটা ভালো ’হতে পারে। আরেকবার ভু’ল করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে খুব এই মানুষটা কে।