গুগল কিভাবে এবং কত টাকা ইনকাম করে?

গুগল কিঃ গুগল বর্তমানে আমাদের জীবনে অনবদ্য হয়ে পড়েছে। কোনো অজানা বিষয়কে জানার জন্য গুগল এর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান বিশ্বে যতো মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তার প্রায় এক তৃতীয়াংশই Google এর দখলে ৷

সেদিক থেকে বিবেচনা করলে, অনলাইন জগতে গুগল সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত কোম্পানি। অপরদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় Advertising Network হলো গুগল।

যার আওতায় কাজ করে লক্ষ লক্ষ পাবলিশার। সততা ও জনপ্রিয়তার খাতিরে গুগল আজ এমন অবস্থানে এসেছে। যার সাথে কেউ প্রতিযোগীতা করতে চাইলে তাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়।

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমি কথা বলবো অনলাইন জগতের টেক জায়েন্ট কোম্পানি গুগল সম্পর্কে। যদি আপনার গুগল সম্পর্কে জানার ইন্টারেস্ট থাকে। যেমন – গুগল কি, গুগল কেন এত জনপ্রিয় এই রকম নানান তথ্য জানতে পারবেন।

তাহলে হাতে কিছু সময় নিয়ে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আশা করি গুগল সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন।

গুগল কি? 

গুগল একটি সার্চ ইঞ্জিন, যেখানে আপনার কোনো প্রশ্ন লিখে দিলেই তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। সেদিক থেকে গুগলকে একটি তথ্যভান্ডার ও বলা যেতে পারে।

তাহলে গুগল কি শুধুই  সার্চ ইঞ্জিন? – না, সার্চ ইন্জিনের পাশাপাশি গুগলের অফলাইন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। যেখানে কাজ করে লক্ষ লক্ষ প্রোগ্রামার। যে প্রতিষ্ঠান থেকে হাজারো রকমের প্রোডাক্ট রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো Google Map ,Gmail,Google play store, Pixel, YouTube সহো গুগলের অনেক প্রোডাক্ট রয়েছে।

তবে বর্তমানে গুগল এর হাজারো প্রডাক্ট থাকলেও, এর সূচনা হয়েছিলো মূলত সার্চ ইন্জিন থেকেই। এছাড়াও মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজতর করার জন্য গুগল সর্বদাই কাজ করে চলছে।

গুগল এর অর্থ কি?

সত্যি বলতে গুগল কি এই শব্দটির অফিশিয়ালি কোনো অর্থ নেই। যেমন কোনো কোম্পানির নামের পেছনে কিছু অর্থ বহন করে। অপরদিকে গুগল শব্দটি সেরকম কোনো অর্থের ইঙ্গিত প্রকাশন করেনা। তবে Google এর পূর্নরুপ হলো, Global Organisation of Oriented Group Language of Earth.

সাধারনত Google নামটির উৎপত্তি হয়েছে Googol শব্দ থেকে। তবে অর্থগত দিক থেকে Googol শব্দটি কোনো অর্থ বহন না করলেও, গানিতিক দিক থেকে Googol শব্দের কিছু অর্থ প্রকাশ করে।

যখন আপনি গুগলে কোনো কিছু সার্চ করবেন ৷ তখন নিচের দিকে একটু স্ক্রল করলে দেখতে পারবেন গুগল এর লোগোতে G এর পরে অনেক গুলো O রয়েছে। আপনার কাছে এই বিষয়টা সাধারন মনে হলেও, এটি মোটেও সাধারণ বিষয় নয়।

G এর পরে অনেক গুলো O থাকার মুল কারন হলো। যখন কেউ কোনো বিষয়ে গুগল এ সার্চ করে। তখন সার্চ করা সেই ব্যক্তি যেন সঠিক তথ্য পায় ৷ সেজন্য গুগল বৃহৎ আকারে সেই ব্যক্তিকে সঠিক তথ্য দেয়ার চেষ্টা করে ৷

এই O আসলে নির্দেশ করে যে, আপনার সার্চ করা বিষয় সম্পর্কে আরও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য গুগলের পরবর্তী পেজেও রযেছে। এবং পরবর্তী পেজে গেলে আপনি আপনার সার্চ করা বিষয় রিলেটেড সেই তথ্য গুলোই পাবেন।

হয়েছিলো গুগলের ৷ বর্তমানে যেমন গুগলে কোনো কিছু সার্চ করলে সাথে সাথেই যেকোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। কয়েকবছর আগের ইতিহাস ঘাটলেই দেখা যাবে, সেই সময়ে গুগলে এতো তথ্যই জমা ছিলো না।

চলুন এবার গুগলের প্রাম্ভরিক জানা-অজানা ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। মানে গুগলের ইতিহাস সমূহ নিয়ে সকল কথা।

কিভাবে গুগল এর উৎপত্তি হয়েছে?

Stanford University যা ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত। এই ইউনিভার্সিটিতে Larry Page এবং Sergey Brin নামে দুজন শিক্ষার্থী ছিলো। যারা মূলত PhD (পিএইচডি) তে অধ্যায়নরত ছিলো। ঠিক এই সময়ে Larry page এবং Sergey Brin নামের এই দুই শিক্ষার্থী একটি সার্চ ইন্জিন তৈরি করার কথা চিন্তা করে।

এরপর এই দুই শিক্ষার্থী মিলে একটা সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করেন। যার নাম দেয়া হয় BackRub. আপনি জানলে অবাক হবেন, শুরুর দিকে Backrub ছিলো একটি প্রজেক্ট। যা শুধু রিসার্চ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিলো।

সেই সময়ে Backrub এর কোনো নিজস্ব ডোমেইনও ছিলোনা। তাই এই সার্চ ইঞ্জিনের জন্য স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধীনে ব্যবহার করা হতো। যার ঠিকানা ছিলো, google.stanford.edu এবং z.stanford.edu.

পরবর্তীতে সেই Backrub সার্চ ইঞ্জিনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় Googol. কিন্তু এই নামের বানান এর মধ্যে কিছু ভুল ছিলো। আসলে Googol শব্দের অর্থ হলো, একটি সংখ্যার পেছনে ১০০শ টি শূন্য। যা বিশাল কোনো তথ্য প্রদানের ইঙ্গিত প্রদান করে থাকে।

তবে এই ভুল বানান বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৯৭ সালে ১৫ ই সেপ্টেম্বর নতুন ডোমেইন (www.google.com) কিনে পুনরায় নামকরন করা হয় Google.

শুরুর দিকে গুগলের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অফিস ছিলোনা। তাই গুগলকে পরিচালনা করার জন্য তাদের একটি বন্ধুর গ্যারেজকে ব্যবহার করা হয়েছিলো। সেই বন্ধুর নাম ছিলো সুজান ওজচিচকি।

গুগলের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের মে মাসে গুগলের নতুন ভিজিটর ছিলো এক বিলিয়নেরও বেশি। যা ছিলো রিতীমত অবাক হওয়ার মতো। এছাড়াও ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেই বছরে গুগলের বাৎসরিক আয় ছিলো ৫০ বিলিয়ন এরও বেশি।

প্রডাক্টকে কিনে নিয়েছে গুগল। সততার সাথে বিজ্ঞাপন প্রচার করে নিজের অবস্থানকেও সুদৃঢ় করতে পেরেছে।

গুগল এর উদ্দেশ্য কি?

দেখুন কোনো কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে কিছু না কিছু উদ্দেশ্য থাকে। তেমনি গুগল এরও কিছু উদ্দেশ্য আছে। তবে গুগলের মূল উদ্দেশ্য হলো ২ টি। মূলত এই দুইটি উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য গুগল সর্বদাই কাজ করে থাকে। যথাঃ

  1. ব্যবহারকারী বৃদ্ধি করা এবং
  2. বিজ্ঞাপন প্রচার করা।

আমি আর্টিকেলের শুরুতেই বলেছিলাম, গুগলের যতো গুলো ব্যবহারকারী রয়েছে। পৃথিবীর কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এতো বেশি ব্যবহারকারী নেই। আর এটি নিয়ে কেউ দ্বিমত পোষন করতে পারবেন না।

তবে কথা সেটি নয়, মূল কথা হলো গুগল কেন এই দুটি উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দিয়েছে? – এই প্রশ্নের উওর হলো, ব্যবহারকারী এবং বিজ্ঞাপন এই দুটোই হলো অনলাইনে বিজনেস করার মূল হাতিয়ার ৷

আর গুগল এই হাতিয়ারকে খুব ভালোভাবে ব্যবহার করতে পেরেছে। শুরু থেকেই গুগলের টার্গেট ছিলো, তাদের তৈরি করা সার্চ ইন্জিনের অনুসারী বৃদ্ধি করা। আর এই কাজটি খুব সহজেই করতে পেরেছে তাদের সার্চ ইঞ্জিনের বদৌলতে।

বিষয়টা একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন। গুগল প্রতিষ্ঠতা তাদের সার্চ ইঞ্জিনকে এমনভাবে প্রস্তুুত করেছেন। যেন কেউ কোনো কিছু সার্চ করলে যেন ১০০% সঠিক তথ্য পেয়ে যায়। আর এজন্যই তারা তাদের Search Engine Algorithm কে প্রতিনিয়ত আপডেট করে থাকেন।

মূলত এই কারনেই গুগলের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং তা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, গুগল কেন এতো ব্যবহারকারী বৃদ্ধি করছে?

এর উওর হলো, ইনকাম করার জন্য, যা সবার ক্ষেএেই হয়। সবাই চায় যেন কোনো কিছু করার মাধ্যমে ইনকাম জেনারেট করা যায়, যেমনটা গুগলও করেছে।

তবে এখানে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে, গুগল কিভাবে ইনকাম করে। কারন আপনি এতোক্ষনে জানলেন গুগল একটি সার্চ ইন্জিন। এই সার্চ ইঞ্জিন থেকে আবার ইনকাম কিভাবে হবে। তো চলুন এবার এই বিষয়ে জেনে নেয়া যাক।

গুগল কিভাবে ইনকাম করে?

যদি আপনি গুগলের উদ্দেশ্যটি বুঝে থাকেন। তাহলে গুগল কিভাবে ইনকাম করে। সেটিও খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। দেখুন গুগলের প্রথম টার্গেট হলো অডিয়্যান্স জেনারেট করা।

গুগল যখন এই কাজটি সঠিকভাবে করতে পেরেছে। তখন গুগলের ইনকাম করার পথও প্রসারিত হয়েছে। গুগলের ইনকাম করার প্রধান উৎস হলো, বিজ্ঞাপন প্রচার করা। তারা মূলত Advertising এর মাধ্যমেই ইনকাম করে থাকে। চলুন বিষয়টি একটু বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করি।

দেখুন, গুগলের মেইন হাতিয়ার হলো অডিয়্যান্স। আর কোনো কোম্পানি বা প্রডাক্টের প্রসারের জন্য প্রচারের কোনো বিকল্প নেই। তাই বড় বড় কোম্পানিরা তাদের পন্যের প্রসারের জন্য একমাএ উপায় হিসেবে গুগলকেই বেছে নেয়।

কারন, গুগলের Advertising Algorithm এতোটাই আপডেট। যা আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন একবারে সঠিক অডিয়্যান্সের কাছেই প্রচার করতে পারে।এর বাস্তব উদাহরণ হলো, Google Analytics. এটি হলো এমন এক ধরনের সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে কোন ওয়েবসাইটে আসা ভিজিটর সম্পর্কে যাবতীয় খুটিনাটি জানা যায়।

গুগল কত টাকা ইনকাম করে?

আপনারা এতোক্ষনে জেনে গেছেন যে, গুগলের ৯৯% ইনকাম আসবে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে। ২০০৬ সালে গুগলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাএ বিজ্ঞাপন দেখিয়ে গুগল ১১২ মিলিয়ন ডলার ইনকাম করেছিলো। এছাড়াও আপনি জানলে অবাক হবেন, গুগল প্রতি সেকেন্ডে $২৩৭৮.২৩ (Dollar) আয় করে থাকে।

কি বিশ্বাস হচ্ছে না? সত্যি বলতে আমি এই আর্টিকেলটি লেখার সময়, যখন এইসব তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। তখন আমিও আপনার মতোই অবাক হয়েছিলাম।

২০১৩ সালের গুগলের আয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই বছরে গুগলের আয় ছিলো ১৪.৮৯ বিলিয়ন ডলার। যা আগের ইনকামের তুলনায় প্রায় ১২% বেশি। যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

অপরদিকে ২০১৪ সালের গুগলের আয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদের সেই বছরে ইনকাম ছিলো ১০৭.০৬ বিলিয়ন ডলার।গুগলের এই আয়ের দিক থেকে বর্হিবিশ্বের কোনো অনলাইন কোম্পানি গুগলের ধারের কাছেও যাওয়া সম্ভব নয়।

আমাদের শেষকথা

বন্ধুরা, আশা করি এই স্বল্প আলোচনা থেকে গুগল কি ? গুগল কেন এত জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং গুগলের ইতিহাস এবং এর ইনকাম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য গুলো জেনে গেছেন।

এরপরও যদি আপনার কোথায় বুঝতে অসুবিধা হয়। তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আমি যথাসাধ্য চেস্টা করবো, আপনাদের হেল্প করার জন্য। ধন্যবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top