কিভাবে জন্ম নেয় ধুমকেতু? ধুমকেতু কি?

রাতের আকাশে তারা দেখতে কার না ভালো লাগে। আমরা যখন রাতের আকাশে, তারা দেখি তখন হঠাৎ করে একটি তারাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে দেখি, এটা খুবি স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু বেপারটা স্বাভাবিক হলেও এটা কিন্তু সচরাচর দেখা যায় না। আপনি কি বলতে পারেন ছিটকে জাওয়া বস্তুটা কি?? একদম ঠিক ধরেছেন এটা হলো উল্কা। আজকে আমরা ঝাটার মতো দেখতে উল্কা নিয়ে কথা বলবো। তাই সম্পূর্ণ কন্টেন্টটি পড়ার অনুরোধ রইলো।

ধুমকেতু হল ধুলো, বরফ ও গ্যাসের তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু। ধূমকেতু একটি ক্ষুদ্র বরফে আবৃত সৌরজাগতিক বস্তু যা সূর্যের খুব নিকট দিয়ে পরিভ্রমণ করার সময় দর্শনীয় কমা এবং কখনও লেজও প্রদর্শন করে । ধূমকেতুর নিউক্লিয়াসের ওপর সূর্যের বিকিরণ ও সৌরবায়ুর প্রভাবের কারণে এমনটি ঘটে। একটি ধূমকেতুর পর্যায়কাল কয়েক বছর থেকে শুরু করে কয়েক’ হাজার বছর পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু কিছু ধুমকেতু নির্দিষ্ট সময় পরপর একই স্থানে ফিরে আসে। যেমন হ্যালীর ধুমকেতু। ধূমকেতু সৌরজগতের ভেতরে অগ্রসর হলে সূর্যের বিকিরণে উদ্বায়ী পদার্থগুলো ধূলো ও গ্যাস হয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এর ফলে যে বায়ুমণ্ডল তৈরী হয় তাকে বলে কমা। সূর্যের বিকিরণ বল ও সৌরবায়ুর প্রভাবে কমার ওপর যে বল প্রযুক্ত হয় তাতে সূর্যাবিমূখি একটি বিশাল লেজ তৈরি হয়। যার কারনে ধুমকেতুর পেছনে লেজ দেখা যায়। ধুমকেতু বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে যেমন স্বল্পকালীন ধূমকেতু দীর্ঘকালীন ধূমকেতু। স্বল্পকালীন ধূমকেতু হল যাদের পর্যায়কাল ২০০ বছরের কম। আর যাদের পর্যায়কাল ২০০ বছর থেকে কয়েক লক্ষ বছর পযন্ত হতে পারে এবং এদের কক্ষপথের উৎকেন্দ্রিকতা অনেক বেশি তাকে বলে দীর্ঘকালীন ধুমকেতু। ধারণা করা হয় স্বল্পকালীন ধূমকেতুর জন্ম বামন গ্রহগুলো বা সেন্টর থেকে।অন্যদিকে হ্যালির ধূমকেতু কাইপার বেল্ট থেকে আসলেও বেশীর ভাগ ধূমকেতুর উৎস হচ্ছে ওর্ট মেঘ। অনুমান করা হয় মূল সৌর জগতের বাইরে, প্রায় ৫০,০০০ জ্যোতির্বিদ্যার একক দূরত্বে অবস্থিত, এই অঞ্চলে হচ্ছে প্রায় এক ট্রিলিয়ন বা দশ লক্ষ কোটি ধূমকেতুর বসবাস। বৃহস্পতির মত বড় গ্রহগুলোর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে একটি ধূমকেতু সৌরজগত ছেড়ে চলে যেতে পারে।এই কারণে বৃহস্পতি পরিবারের ধূমকেতুর আয়ু ১০ হাজার বছর বা প্রায় ১০০০ বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু দীর্ঘকালীন ধূমকেতুগুলোর ১০% মাত্র ৫০বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারে এবং মাত্র ১% প্রায় ২০০০ বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারে। এরপরে ভেতরের উদ্বায়ী পদার্থ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। বিজ্ঞানী হ্যালী প্রথম দেখান যে ১৫৩১, ১৬০৭, ১৬৮২ সালের ধূমকেতু ১৭৫৯ সালের শেষে আবার দেখা যাবে। তার এই সফল হিসাবের জন্য এই ধূমকেতুর নামকরন করা হয় হ্যালীর ধূমকেতু। একইভাবে ইনকার ধূমকেতু, বিলার ধূমকেতুর নামকরণ করা হয় বেশিরভাগ ধুমকেতুর নিউক্লিয়াস ৬মাইল বা ১০ কি.মি. এর কম হয়ে থাকে। কোনো ধুমকেতুর বিস্তৃতি নির্ভর করে সেটি সূর্য থেকে কত দূরে অবস্থান করছে। যখন কোনো ধুমকেতু সূর্যের কাছাকাছি যায় তখন তার নিউক্লিয়াসে অবস্থিত বরফ বাষ্পীভূত হয়ে শুরু করে। আর নিউক্লিয়াসের বরফ বাষ্পীভূত হওয়ার কারণে কমার বিস্তৃতি বেড়ে গিয়ে হয়ে যায় ৫০,০০০ মাইল । যা প্রায় ৮০,০০০কি.মি. এর ফলে ধুমকেতুর লেজ গুলোর বিস্তৃতি বেড়ে গিয়ে প্রায় ৬ লক্ষ মাইল বা প্রায় ১মিলিয়ন কি.মি. পযন্ত হয়ে যেতে পারে। এছাড়া ১০৬৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু ইংল্যান্ড থেকে দেখা গিয়েছিল এবং সেটিকে একটি অশুভ সংকেত মনে করা হয়েছিল: কারণ, সেই বছরই হেস্টিংসের যুদ্ধে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় হ্যারোল্ড নিহত হন এবং দিগ্বিজয়ী উইলিয়াম সিংহাসন অধিকার করেন। বেউক্স টেপেস্ট্রিতে ধূমকেতুটি উল্লিখিত হয় এবং টাইট্যুলিতে এটি বর্ণিত হয় একটি নক্ষত্র হিসেবে। সেই যুগের যে সব বিবরণী পাওয়া গিয়েছে তাতে দেখা যায় যে ধূমকেতুটির বর্ণনায় বলা হয়েছে, এটি আকারে ছিল শুক্র গ্রহের চার গুণ এবং এর ঔজ্জ্বল্য ছিল চাঁদের ঔজ্জ্বল্যের এক-চতুর্থাংশ। সেইবার হ্যালির ধূমকেতু পৃথিবীর ০.১০ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক এককের মধ্যে চলে এসেছিল। হ্যালির ধূমকেতুই একমাএ ধুমকেতু যা পৃথিবী থেকে প্রতি ৭৫-৭৬ বছরে দৃশ্যমান হয়। হ্যালির ধূমকেতুই হল একমাত্র জ্ঞাত স্বল্প-পর্যায়ের ধূমকেতু যা পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায় এবং সেই কারণে এটিই খালি চোখে দৃশ্যমান, একমাত্র ধূমকেতু যা একজন মানুষের জীবদ্দশায় দুই বার দৃষ্টিগোচর হতে পারে।সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ অংশে হ্যালির ধূমকেতু শেষ বার উপস্থিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে এবং এরপরে আবার আসবে ২০৬১ সালের মধ্যভাগে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top