মঙ্গল গ্রহে বসবাস এখন শুধু সময় অপেক্ষা।

মঙ্গল গ্রহে বসবাস এখন শুধু সময় অপেক্ষা।

আপনি কি কখনো পৃথিবীর উপর বিরক্ত হয়েছেন কখনো কি আপনার মনে হয়েছে এই পৃথিবী আপনার জন্য নয়।কখনো কি ইচ্ছে হয়েছে পৃথিবী ছেরে অন্য কোথাও চলে যাতে? তাহলে আজকের কন্টেন্টটি আপনার জন্য। হে বন্ধুরা আপনার ইচ্ছা কে পূরন করার জন্যই একদল বিজ্ঞানি মঙ্গলকে মানুষের বসবাস য়োগ্য করার জন্য করার জন্য দিনরাত কাজ করছে। মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে আরো তথ্য জানার জন্য সম্পূর্ণ কন্টেন্টটি পড়ার অনুরোধ রইলো। _______________________________________________________________

মঙ্গল গ্রহ হলো সৌরজগতের চতুর্থতম গ্রহ অথার্ৎ সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ যা বুধের পরেই অবস্থান। সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ।প্রায়শই এই গ্রহকে লাল গ্রহ নামে অভিহিত করা হয়।এই গ্রহের পৃষ্ঠতলে ফেরিক অক্সাইড এর আধিক্যের কারণে গ্রহটিকে লালচে রঙের দেখায়।মূলত মঙ্গল গ্রহ একটি শিলাময় গ্রহ এবং যার বায়ুমন্ডল ঘনত্বহীন। গ্রহটির পৃষ্ঠভাগে চাদের মতো অভিঘাত খাদ পৃথিবীর মতো উপত্যকা ও মরুভূমি রয়েছে। বাংলা সহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় মঙ্গল গ্রহকে হিন্দু গ্রহদেবতা মঙ্গলের নামে নামকরন করা হয়। যা ইংরেজিতে মার্স নামেও পরিচিত। মঙ্গলের ব্যাসার্ধ পৃথিবীর অধেক এবং ভর পৃথিবীর এক দশমাংশ। মঙ্গল গ্রহ বুধ গ্রহ থেকে বড় হলেও বুধের ঘনত্ব মঙ্গল থেকে বেশি। মঙ্গলকে দেখতে অনেকটা লাল রঙের কমলার মতো। এর কারনে মঙ্গলের পৃষ্ঠতলে প্রচুর পরিমানে ফেরিকঅক্সাইডের উপস্থিতি রয়েছে। সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের গড় দুরুত্ব প্রায় ২৩০ মিলিয়ন কিলোমিটার। যা ১৪৩ মিলিয়ন মাইলের সমান এব মঙ্গল গ্রহ ৩৮৭ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিন করে। পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গলের দিন সামান্য দীর্ঘ যা ২৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট ৩৫.২৫ সেকেন্ড। এক মঙ্গলীয়বর্ষ হলো পৃথিবীর ১ বছর ৩২০ দিন ১৮. ২ ঘন্টার সমান। বর্তমান গবেষণায় এট প্রতীয়মান হয়েছে যে বাসযোগ্যতা তথা একটি গ্রহে প্রানের বিকাশ ঘটার সম্ভাবনার পরিমান বেশিরভাগক্ষেত্রে মঙ্গলের পৃষ্ঠতলে পানির অস্তিত্বের ওপর নির্ভর করে। এই শর্তটি পুরন কারার জন্য গ্রহটিকে অবশ্যই বাসযোগ্য অঞ্চলে থাকতে হবে। বর্তমানে সূর্যের বাসযোগ্য অঞ্চলের ভিতর পৃথিবীর অবস্থান রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলগ্রহ এই অঞ্চল থেকে অধেক একক দুরে অবস্থিত বলে জ্যেতিষ্কৈবজ্ঞানিকদের ধারনা। এই কারনেই এর পৃষ্ঠতলে সব পানি জমে বরফ হয়ে যায়। চন্দ্রজয়ের পর কাছাকাছি দূরত্বের অন্য গ্রহগুলোতে পদচিহ্ন রাখার লক্ষ্যে মানুষ নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আশির দশকে বেশ কয়েকবার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন মহাকাশ সংস্থা মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে মহাকাশযান অবতরণে সক্ষম হয়। এরপরই পৃথিবীর বাইরে মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসবাসযোগ্য আবাসস্থল গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেন বিজ্ঞানীরা। এখন প্রশ্ন হলো, মহাকাশবিজ্ঞানীরা এজন্য মঙ্গলকেই বেছে নিলেন কেন? কারণ সৌরজগতের মধ্যে একমাত্র মঙ্গল গ্রহকেই পৃথিবীর ‘যমজ ভাই’ মনে করা হয়। পৃথিবীর মতো ভূ-ত্বক রয়েছে এই গ্রহে। ভূ-ত্বকে রয়েছে চাঁদের মতো অসংখ্য খাঁদ। রয়েছে আগ্নেয়গিরি, মরুভূমি এবং মেরুদেশীয় বরফ। সুতরাং আদাজল খেয়ে মাঠে নামেন বিজ্ঞানীরা। তৈরি করে ফেলেন মঙ্গলে মানুষ বহনে সক্ষম মহাকাশযান! বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক আশা করেন, এ শতাব্দীর মাঝামাঝি মানুষের মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের স্বপ্ন পূরণ হবে। তবে শুধু আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করলেই তো হবে না। প্রয়োজনীয় পানি, খাদ্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য কাঁচামালের বিষয়গুলোও মাথায় রাখতে হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে নাসা তাদের ওয়েবসাইটে ঘোষনা দেয় মঙ্গলে তরল পানির সন্ধান পাওয়া গেছে এছাড়া পৃথিবীর মতো মঙ্গলেরও প্রাকৃতিক উপগ্রহ রয়েছে। তবে মঙ্গলে প্রাকৃতিক উপগ্রহের সংখ্যা ২ টি যথা ফোবোস ও ডিমোস। আর পৃথিবীর একমাএ উপগ্রহ হলো চাদ। মঙ্গলে প্রথম ফ্লাই বাই করতে সমর্থ হয় নাসার মেরনিার 4। ১৯৬৪ সালে এই নভোযান উৎক্ষেপন করা হয়েছিল। প্রথম মঙ্গলের ভুপৃষ্ঠে অবতরন করে ২ টি সোভিয়েত সন্ধানিযান মার্স 2 এবং মার্স 3।তবে দুঃখের বিষয় হলো যে অবতরেনর মাএ কয়েক সেকেন্ডের মাথায় ২ টি নভোযানের সাথেই পৃথিবীর মিশন কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।তবে সম্প্রতি নাসার পাঠানো পারসিভিয়ারেন্স রোভার মঙ্গলের বুকে ২০২০ সালের ফ্রেবুয়ারি অবতরন করা হয়। যার মাধ্যমে মঙ্গলের বুকে বসবাসযোগ্যতা পানির অস্তিত্ব বিভিন্ন শিলা ও মাটির নমুনা সংগ্রহের কাজে ব্যাবহার তরা হবে। এছাড়া এই রোবটযানটি আগামি ২ বছর বিভিন্ন অনুসন্ধান চালাবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন মঙ্গলে বেচে থাকার জন্য গবেষনা থেমে নেই।আর যারা মঙ্গলের আবাসন নিয়ে কাজ করছেন।এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের কাজও চলছে পুরোদমে। অতএব মঙ্গলে বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় লাইফ সাপোট নিশ্চিত করতে পারলে সেখানে পৃথিবীর মতো বসবাস সম্ভব। এখন অপেক্ষা শুধু সপ্নপুরনের।।।

আমাদের আজকের এই প্রচেষ্টা টি ভালো লাগনে সাইটি ভিজিট করার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top