Wednesday , July 28 2021

সে রাতে ক্লাবে পরীমনির সঙ্গে যা ঘটেছিল







দেশের জনপ্রিয় অ’ভিনেত্রী পরীমণিকে ধ’’ র্ষ’ ণ ও হ’ত্যাচেষ্টা করা হয়েছে এবং তাকে ধ’’ র্ষ’ ণ করতে না পেরে মে’রে ফেলার হু’মকিও দেওয়া হয়েছে এ অবস্থায় তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। রবিবার (১৩ জুন) রাতে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সেদিন তাঁর সঙ্গে কী’ ঘটেছিল সেটাও জানিয়েছেন পরীমনি।






নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে দেওয়া স্ট্যাটাসে অ’ভিযু’ক্তদের নাম প্রকাশ না করলেও পরে সাংবাদিকদের সামনেই অ’ভিযু’ক্তের নাম ও কখন, কোথায় তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় সেসবের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।






রাত সাড়ে ১০টায় বনানীর বাসায় সাংবাদিকদের পরীমনি জানান, গত ১০ জুন রাতে পারিবারিক বন্ধু অমি ও ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী জিমির সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন তিনি। রাত তখন ১২টা পেরিয়েছে। বন্ধুটি তাদের নিয়ে যান আশুলিয়ার একটি ক্লাবে। ক্লাবটির নাম উত্তরা বোট ক্লাব। সেখানে ম’দ্যপানরত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে পরীমনির পরিচয় করিয়ে দেন অমি। ওই ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম নাসিরউদ্দিন আহমেদ। তিনি নিজেকে ক্লাবটির সাবেক প্রেসিডেন্ট পরিচয় দেন। নাসিরউদ্দিনসহ উপস্থিত ব্যক্তিরা তার সঙ্গে বাজে আচরণ করেন। মাধুরী দিক্ষিত বলে নাচতে বলে। এক সময় তাদের একজন হঠাৎ জো’র করে পরীমনির মুখে পানীয়র গ্লাস চেপে ধরে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ সময় মা’রধর পরীমনির সঙ্গে থাকা কস্টিউম ডিজাইনার জিমিকেও মা’রধর করে তারা।

নাসির উদ্দিন তার সঙ্গে জো’রপূর্বক শারীরিক স’ম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন বলেও অ’ভিযোগ করেন পরীমনি।






পরীমনি বলেন, বুধবার রাত ১২ টার দিকে অমি নামের একজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে উত্তরা বোট ক্লাবে যাই। সঙ্গে আমা’র ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী জিমিও ছিলেন। তবে পরে সেখানে নাসিরউদ্দিন আহমেদ নামে এক ব্যক্তি আসেন। তিনি নিজেকে উত্তরা বোট ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট পরিচয় দেন। সেদিন তিনিসহ চারজন ম’দ্যপ ব্যক্তি আমাকে শারীরিকভাবে নি’র্যা’তন করেন। চড়-থাপ্পড় মা’রেন। গায়ে আ’ঘাত করেন। এক পর্যায়ে একজন আমাকে নে’শাদ্রব্য খাইয়ে ধ’’ র্ষ’ ণের চেষ্টা করে।






এই ঘটনার পর পরীমনি বনানী থা’নায় অ’ভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মক’র্তারা তারা অ’ভিযোগ রেকর্ড করেননি। এরপর হাসপাতাল পর্যন্ত গিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান।

পরীমণি বলেন, ‘এমন ঘটনায় সাধারণ মে’য়েরা প্রথমে কোথায় যায়? থা’নায় যায়। আমিও থা’নায় গিয়েছি। আমি বারবার বলেছি, ঘটনাটা যদি নিজের সঙ্গে না ঘটে তাহলে কেউ বুঝবে না। ওইদিন পর্যন্ত কি তবে অ’পেক্ষা করবেন?’






অ’ভিযু’ক্তদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে পরীমনি বলেন, ‘আমা’র মুখটা সাদা কাপড়ে ঢাকা পড়লেই কেবল বুঝতেন। আমি চার দিন ধরে কারও সাপোর্ট পাইনি। আপনারা সত্যিটা খোঁজেন। সাধারণ কোনো মে’য়ের হলে সে খবর হয়তো আপনাদের কাছে পৌঁছায় না। সাংবাদিকদের কাছে খবর পৌঁছানো হয় না। আমা’র মতো যখন কোনো মে’য়েকে ভ’য় দেখানো হয় তখন সাধারণ মে’য়ের খবর তো পাবেন না!’






কাঁদতে কাঁদতে সাংবাদিকদের উদ্দেশে পরীমনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে ৫ মিনিট কাঁদতে দেখছেন। কিন্তু আমি গত চারদিন ধরে কাঁদছি। ওই লোক আমাকে কি সব বিশ্রি কথা বলেছিলো। আমি বলতে পারছি না। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমা’র জায়গায় আপনারা থাকলে হয়ত কথাও বলতে পারতেন না। আমি ওইখানে অ’জ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। ওয়েটাররা ধরে আমাকে নামিয়ে দেয়। সিসি ক্যামেরায় সব রেকর্ড আছে। আমা’র মনে হয়েছে বিষয়টি তাদের পূর্বপরিক’ল্পিত।’

একপর্যায়ে অঝরো কাঁদতে কাঁদতে পরীমনি চি’ৎকার করে বলেন, ‘আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তবে আপনারা জেনে রাখু’ন, আমি আত্মহ’ত্যা করার মতো মে’য়ে নই। যদি ম’রে যাই তবে বুঝবেন, আমাকে মে’রে ফেলা হয়েছে। আমা’র সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। ম’রলে আমি আমা’র বিচার নিয়ে ম’রব।’