Tuesday , May 18 2021

দুটি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন আনভীর

মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ বলেন, মুনিয়া ঢাকায় এসে একটি না’রী হোস্টেলে থাকত। মুনিয়ার একাধিক আত্মীয় বলেন, এ সময় তার বড় বোন নুসরাতের উৎসাহে ও জনৈক হিরু মিয়ার মাধ্যমে শোবিজ জগতে যাতায়াত শুরু হয় মুনিয়ার। তার স’ঙ্গে প’রিচয় হয় সিনেমার একজন পরিচিত নায়কের।

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

এছাড়া একজন পরিচালক তাকে নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে নিয়ে যান। তবে মুনিয়ার ভাই সবুজ দা’বি করেন, শুরু থেকেই এসব অ’পছন্দ করতেন তিনি। কুমিল্লায় একটি আয়ুর্বেদিক কোম্পানিতে সেলসম্যানের চাকরি করা সবুজ জানতেন না মুনিয়া কোথায় থাকে, কী করে।

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

এমনকি তার মৃ’ত্যুর খ’বরও শুরুতে সবুজকে দেওয়া হয়নি বলে দা’বি করেন তিনি। তিনি জানতে পারেন প’রিচিতজনের মাধ্যমে। পরে তিনি নুসরাতকে ফোন দেন বিস্তারিত জানার জন্য। সবুজ বলেন, ওই সময়ও নুসরাত অনেক ত’থ্যই গো’পন করে আমার কাছে।

সবুজ বলেন, ‘আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির সমান ভাগ নিয়ে নুসরাত আমি, আমার চাচা, চাচিসহ কয়েকজনকে আ’সামি করে মা’মলা করে। মা’মলার কারণে স্বাভাবিকভাবেই নুসরাত ও মুনিয়ার স’ঙ্গে আমার দূরত্ব তৈরি হয়। ওই মা’মলা এখনো শে’ষ হয়নি। তবে স’মাধানের চে’ষ্টা চলছে।’

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

মুনিয়া নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শুভপুরের নিলয় নামে এক যুবকের স’ঙ্গে পা’লানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সবুজ বলেন, ‘তখন মুনিয়ার বয়স ছিল কম। সে আবেগে পড়ে ভু’ল করেছে। আমরা পরে সামাজিকভাবে সেটার স’মাধান করেছি।’

সবুজ জানান, তার বাবা মু’ক্তিযো’দ্ধা শফিকুল ইস’লাম মা’রা যান ২০১৫ সালে আর মা মা’রা যান ২০১৯ সালে। এরপর থেকে মুনিয়া সম্পূর্ণভাবে নুসরাত ও তার স্বামীর নিয়’ন্ত্রণে ছিল। ছোট বোনের এ প’রিণতির জন্য সবুজ নিজেও তার বোন নুসরাত ও তার স্বামীকে দা’য়ী করেন।

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

সুবজ বলেন, ‘সেলিম চাচা আমাদের পরিবারের অভিভাবক। ছোট চাচা সাজ্জাদ অ’সুস্থ। আমরা যা করার সেলিম চাচার পরামর্শেই করব।’ মুনিয়ার আ’ত্মীয়রা বলছেন,

বাবা-মার মৃ’ত্যুর পর এই বোন-ভগ্নিপতিই ছিলেন মুনিয়ার একমাত্র অভিভাবক। টাকার লো’ভে তারা মুনিয়ার জীবন কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন সেটা একবার জানারও চে’ষ্টা করেননি।

২৬ এপ্রিল গুলশানের একটি ভাড়া বাসা থেকে মুনিয়ার ঝু’লন্ত ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়। পরে পু’লিশ এসে তাকে নামায় ও বিছানায় শুইয়ে দেয়। বড় ধরনের বি’পদ ঘ’টতে পারে বলে মোসারাত তাঁর পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এই ঘ’টনায় ওই রাতেই মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান বা’দী হয়ে বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে আ’সামি করে মা’মলা করেন।

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

মুনিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আ’সামি প্রভাবশা’লী হওয়ায় তাকে গ্রে’প্তার করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে পু’লিশের উপকমিশনার বলেন, ‘ফ্ল্যাট থেকে ম’রদেহ উ’দ্ধারের পর ভু’ক্তভো’গী ত’রুণীর বোন পু’লিশকে জানানোয় উৎসাহী ছিলেন না, তারা মা’মলা করতেও অতটা ইচ্ছুক ছিলেন না।

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

বাড়ির মালিক পু’লিশকে জানান। গুলশানের সেই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেয়ালে টা’ঙানো মুনিয়ার স’ঙ্গে আনভীরের ছবি দেখা যায় এবং কয়েকটি ডায়েরি পায় পু’লিশ।

ডায়েরিগুলোয় “সু’ইসাইডাল নোটের” মতো অনেক কিছু লেখা। এসব দেখে পু’লিশ অনুমান করে, একজন প্র’তিশ্রুতিশীল ত’রুণী মাত্র ২১ বছর বয়সে কোনো কারণ বা প্র’রোচনা ছাড়া এমনটা করতে পারে না। ’

তিনি বলেন, ‘সে রাতেই পু’লিশ যা যা ত’থ্য সংগ্রহ করার দরকার, তার সব সংগ্রহ করে এবং তাৎক্ষণিক সা’ক্ষ্যপ্র’মাণের ভিত্তিতে মা’মলা হয়। ওই রাতে তিনিসহ, গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার, সহকারী কমিশনার, গুলশান থা’নার ভারপ্রাপ্ত ক’র্মকর্তাসহ (ওসি) সব কর্মক’র্তা ঘট’নাস্থলে ছিলেন। এই মা’মলায় যেন ন্যা’য়বি’চার হয়, সে ব্যাপারে শুরু থেকেই পু’লিশ উদ্যোগী ছিল।’

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

প্ররোচনার কোনো প্র’মাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, তারা ২০২০–২১ সাল পর্যন্ত লেখা ডায়েরি উ’দ্ধার করেছেন। ওই ডায়েরিতে ধারাবাহিকভাবে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত লিখেছেন মুনিয়া।

একটি পৃষ্ঠায় তিনি বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে লিখেছেন। কিন্তু তাতে কোনো তারিখ ছিল না। ধা’রণা করা হচ্ছে, এটা তিনি লিখেছেন ২৬ এপ্রিল এবং এতে নিজের জী’বন শে’ষ করার ই’ঙ্গিত ছিল। ডায়েরির একটি জায়গায় মুনিয়া তারিখ না দেওয়া পৃষ্ঠাগুলো পড়ার অ’নুরোধ করেছেন, কোনোভাবেই যেন ওই পৃষ্ঠাগুলো কেউ এড়িয়ে না যায় সে কথাও বলেছেন।

ছয়টি ডায়েরিতেই মোসারাত তাদের স’ম্পর্কের টা’নাপোড়েন নিয়ে লিখেছেন। তার মৃ’ত্যুর পর টাকা–পয়সার লে’নদেনসংক্রান্ত একটি অডিও পাওয়া যায়। ওই অডিও পরীক্ষা–নিরীক্ষার আওতায় আনবে পু’লিশ। শে’ষ কার স’ঙ্গে মোসারাতের কথা হয়েছিল? ফোনটি সচল ছিল কি না, জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার বলেন, ‘মুনিয়া দুটি ফোন ব্যবহার করতেন।

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

     

       
     

একটি ফোন মৃ’ত্যুর পরও সচল ছিল।’ তবে শে’ষ কার স’ঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, সে স’ম্পর্কে পু’লিশ ত’থ্য দিতে চায়নি। কথা বলার কতক্ষণ পর মোসারাত মা’রা যান, তা–ও বলেনি পু’লিশ।

এদিকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃ’ত্যুর ঘ’টনায় প্র’রোচনার মা’মলা’র আ’সামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের দেশত্যা’গের ওপর আগেই নি’ষেধাজ্ঞা জা’রি রয়েছে।

কিন্তু তিনি দেশে আছেন নাকি দেশত্যা’গ করেছেন, এই নিয়ে গু’ঞ্জন উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। তবে সায়েম সোবহান দেশেই আছে বলে জানিয়েছেন পু’লিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাং।

পু’লিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। অভিবাসন ক’র্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আ’সামি বাংলাদেশে আছেন। তিনি দুটি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশত্যা’গের কোনো রে’কর্ড নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *