Saturday , May 1 2021

অস্ট্রেলিয়ার রান্না বিষয়ক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি নারীর জয় (ভিডিও)

মাস্টার শেফ অস্ট্রেলিয়া। এটি মূলত ব্রিটিশ মাস্টার শেফের উপর ভিত্তি করে তৈরি। একটি অস্ট্রেলিয়ান প্রতিযোগিতামূলক রান্নার গেম শো। যেখানে অপেশাদার রন্ধনশিল্পীরা মাস্টার শেফ অস্ট্রেলিয়া জয়ের জন্য প্রতিযোগিতা করে। এই রান্না বিষয়ক গেম শোটি প্রযোজনা করে শাইন অস্ট্রেলিয়া এবং এটি প্রচারিত হয় সেই দেশের নেটওয়ার্ক-১০ নামে একটি চ্যানেলে।

সেই রান্না বিষয়ক গেম শোতে অংশ নিয়েছেন কিশোর নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী। তার রান্না দিয়ে জয় করেছেন মাস্টার শেফ অস্ট্রেলিয়ায় গেম শোয়ের প্রথম রাউন্ড। প্রথম রাউন্ডে অনেককেই পরাজিত করে তিনি এখন শীর্ষ ২৪ এ অবস্থান করছেন।

এ নিয়ে মাস্টার শেফ অস্ট্রেলিয়ায় ফ্যান পেজে কিশোরের সেই রান্নার একটি ভিডিও তুলে ধরেছে। যেখানে কিশোর তার রান্না ও অতীতের কিছু স্মৃতি শেয়ার করেছেন।

ওই ভিডিওতে দেয়া সাক্ষাতকারে কিশোর বলেন, ‘আমি কিশোর। আমার বয়স ৩৮। আমি দুই সন্তানের মা। আমি ভিক্টোরিয়া থেকে মেলবোর্ন এসেছি। আমার বাচ্চারা, আমার মা-বাবা সবাই আমার কাছে বাংলাদেশি রান্না দেখতে চায়।’

তিনি বলেন, আজকে আমি সামুদ্রিক পোনা মাছ কাঁচা আমের সঙ্গে টুকরো দিয়ে রান্না করব। মাছগুলোর আঁশ পরিষ্কার করে এগুলো আমি ভেজে নেব।
আমার মাধ্যমে সত্যিই বাংলাদেশি খাবার অস্ট্রেলিয়ার খাদ্য তালিকার মধ্যে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু কিছু বিষয় আমাকে পেছনে টানছে।

আমি আমার শৈশবে খাবার তৈরির নোট নিতাম এবং ভুলে যেতাম। মা আমাকে বলতেন, যদি আমি তোমাকে ছেড়ে যাই, পুরো দুনিয়া তোমাকে ছেড়ে যাবে। আমি এই রান্নার কাজ ছেলেবেলা থেকেই করি।

তবে আমি আমার স্বপ্নপূরণে খুব স্বার্থপর। কিন্তু তারা খুব সহযোগিতা করেছিল, অনুপ্রাণিত করেছিল। আমি জানি এই অর্জন তাদের জন্যই।

কান্নায় ভেঙে পড়ে কিশোর বলেন, ‘আমার জীবনের লক্ষ্য ছিল একটি বাংলাদেশি রেসিপির বই লেখা। কিন্তু আমার সন্তান মিকা আর সারফিনার জন্য তা শেষ করা হয়ে উঠে না। কিন্তু আমি এটা সত্যিই শেষ করতে চাই।’
ভিডিওর শেষের দিকে বিচারকরা তাকে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য সিলেকশন করলে কিশোর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এবং বিচারকদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় বিচারকরা বলেন, তুমি এখান থেকে যাও এবং তোমার সাফল্যের কথা তোমার পরিবারকে জানাও।
এরপর বাংলাদেশি প্রবাসী কিশোর বাইরে বের হয়ে তার পরিবারের সঙ্গে ভিডিওতে এই ভাল লাগার মূহূর্তটি শেয়ার করে বলেন, ‘আমি এইমাত্র বিচারকদের কাছ থেকে আসলাম। এই মুহূর্তটি আসলেই আনন্দদায়ক। তারা আমাকে এটা দিয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *